জাফর পানাহির ‘ইট ওয়াজ জাস্ট এন অ্যাকসিডেন্ট’ দেখলাম। শুরুতেই বলে রাখি, পানাহির এই সিনেমা তার দেশের বাইরে প্রচুর প্রশংসিত। প্রশংসার ফল স্বরূপ আমরা দেখি এই সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবের ২০২৫ সালে গোল্ডেন পাম বা পাম ডি অর জিতছে। অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র শাখার শর্টলিস্টেও স্থান পাইছে। উল্লেখ্য, বলে রাখি তার যে রাজনৈতিক অবস্থান এতদিন ছিলো বা এখন এসে যে অবস্থায় দাঁড়াইছে তাতে তাকে এ বছর সেরা আন্তর্জাতিক সিনেমার অস্কার পুরস্কার দেয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক হবে না। এই কথা শুরুতেই বলে রাখলাম, কারণ দিনকে দিন আমার কাছে সিনেমা আর সিনেমার রাজনীতির সম্পর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠতেছে। আর এই তীব্রতার কারণেই আমি ভাবতে শুরু করেছি এই সিনেমা এবার অস্কার জিততে পারে। সাথে আরেকটা বিষয় যোগ করি, সিনেমাটা কিন্তু শুধু একটা ক্যাটাগরিতেই মনোনয়ন পায়নি, পাইছে দুইটা ক্যাটাগরিতে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিটা হলো সেরা অরিজিনাল চিত্রনাট্য ক্যাটাগরি।
বিশ্বাস করেন ভাই, আমি এই সিনেমা একবারে শেষই করতে পারিনি। বারবার
আমার মনোনিবেশ উঠে গেছে। এবং একটু পরপরই আমার মনে হয়েছে এই সিনেমায় আদতে আমি আসলে নতুন
কিছু পাবো না। হ্যা, শেষবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে যখন পরিবারের সদস্যদের সাথে বাংলা সিনেমা
দেখতাম, তখন আমার ছয়-সাত বছরের ভাতিজি সিনেমার প্রথম কয়েকটা দৃশ্য দেখেই সিনেমার গল্প
বলে দিতে পারতো। লাইক সিনোপসিস। পানাহির এই সিনেমা দেখার পর নিজেকে আমার সেই শিশু ভাতিজির
মতো মনে হইছে।
এবার বলি, কেন এই সিনেমায় আমি আরাম পাইনি। প্রথমমত এই সিনেমা পানাহির
নিজের রিভেঞ্জ আকাঙ্খার ফল বলে মনে হইছে। পানাহি চাইলেই এরচেয়ে বেটার রিভেঞ্জ অন্যভাবে
নিতে পারতো, কিন্তু সে তার অস্ত্র হিসেবে সিনেমাকেই বেছে নিছে। কিন্তু এই শিল্পী সত্তা
আসলে তাকে একটা স্বস্তি দিলেও লিবারেল দর্শকদের অন্ধের হাতি দেখার মতো করে তার সিনেমা
দেখার সুযোগ নাই। কেন বললাম এই কথা? কারণ, সিনেমার লিবারেল দর্শকরা কারো ব্যক্তিগত
জার্নি তখনই মেনে নেয় যখন তা সর্বজনীন হয়। একই সাথে সেই সিনেমা লিবারেল বা রাজনৈতিক
ও অরাজনৈতিক মানুষের মনেও প্রভাব ফেলে। পানাহির এই সিনেমাও অনেকাংশে সর্বজনীনের মতোই।
কিন্তু সর্বজনীন না। কারণ, এইটা হয়তো আমার মনে পড়তেছে এমন সময় যখন ইরানে শুধু মাত্র
শাসক বদলের আকাঙ্খায়, প্রতিদিন শত শত মানুষ মারছে অ্যামেরিকা ও ইসরাইল। হ্যা, এই সিনেমা
আরও মাস তিনেক আগে দেখলে আমি হয়তো অন্য চিন্তাও করতে পারতাম। কিন্তু যেটা আমাকে কনভিন্স
আগেও করতো না, এখনও করেনি তা হলো এই সিনেমার ডায়লগ। এই সিনেমার অভিনয়। এই সিনেমার নির্মাণ।
এইগুলো আমার কাছে মোটেও মহান মনে হয়নি। মনে হয়েছে মন্দের ভালো। ডায়লগ অভিনয় খুবই মেকি
মনে হইছে। বারবার মনে হইছে আমি বোধহয় একটা মঞ্চ নাটকে ঢুকে গেছি। এই ভাবনা সিনেমার
শেষ দিকের কয়েকটা দৃশ্য ছাড়া সব সময়ই আটকে ধরে রেখেছে। আর তাই কিছুটা বিরক্তও হয়েছি
আমি। সিনেমা দেখার পর, আরও কয়েকজন দর্শকের সাথে কথা বলে মনে হলো একই ধরনের অভিজ্ঞতা
কেবল আমার নয়, তাদেরও। মানে এই যে মঞ্চের মতো করে যে অভিনয়, তা সিনেমায় হইলে আমি মানতে
পারবো না। সিনেমার আলাদা একটা ভাষা আছে, সেই ভাষাই তখন আসলে এখানে মিন করে না। সে হিসেবে
পানাহির এই সিনেমা আমি উপভোগ করতে পারিনি। মাই ব্যাড।